অফবিট

স্টেশন তৈরি হওয়ার পর চলেনি একটিও ট্রেন! আড়াই বছর ধরে জনমানব শূন্য ভারতের এই রেল স্টেশন, কারণ জানলে অবাক হবেন

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার এক চমকপ্রদক ফল হল রেলগাড়ি। ইংরেজদের এই অসামান্য আবিষ্কারের ফল আজও সাধারণ মানুষের সময়কে বাঁচিয়ে চলেছে। অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার থেকে রেল সহজলভ্য এবং আরামদায়ক একটি ব্যবস্থা, তাই বেশিরভাগ মানুষই দূরের কোনো রাস্তায় পাড়ি দেওয়ার জন্য রেলেরই দারস্ত হয়। ভারতবর্ষের বেশিরভাগ স্টেশনেই মারকাটারি ভীড় নজরে পরে, পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত থাকে না একাধিক ব্যস্ততম রেলস্টেশনগুলিতে। তবে এরই মাঝে এমন অনেক স্টেশন আছে যেখানে মানুষ তো দূর রেলগাড়ির চিহ্ন পর্যন্ত নেই! হ্যাঁ শুনে অবাক লাগলেও রাঁচি থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে, এমনই একটি রেলস্টেশনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেখানে এককালে কোলাহলে ভরপুর থাকলেও, আজ দুর্ভিক্ষে পরিণত হয়েছে সেই স্টেশন।

রাঁচি বিভিগের মেসরা স্টেশন, কয়েক বছর আগে সেখানে স্টেশন তৈরি হয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল। এরপরই করোনা থাবা বাসায় গোটা বিশ্বে; লকডাউন চলাকালীন একাধিক ট্রেন বাতিল থাকে, তাই ওই স্টেশনটিতে কোন ট্রেনই থামতো না সেই সময়। এরপর ধীরে ধীরে সময়ের বদল ঘটেছে, আবারো পুরনো ছন্দে ফিরেছে বিশ্ব কিন্তু মেসরা স্টেশন রয়ে গেছে আগের মতই, ট্রেন চলাচল এখনও সেখানে বন্ধ। কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা এই স্টেশনে, বর্তমানে আড্ডা জমেছে নানান পশুদের। চারপাশে গজিয়ে উঠেছে ঘাস, জঙ্গলে পরিণত হয়েছে রেলস্টেশন। জানলার কয়েকটি কাঁচও ভেঙে গেছে। তবে কখনো কখনো সেখানকার শিশুরা স্টেশনে খেলতে আসে। তবে কি আর কখনোই মেসরা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার ব্যস্ততা দেখা যাবে না?

ধানবাদ রেলওয়ের বিভাগের সিনিয়র ডিসিএম অমরেশ কুমার জানান, সেখানে ট্রেনের কার্যক্রম নাকি শুরুই হয়নি! সানকি থেকে সিদ্ধেশ্বর পর্যন্ত রেললাইন তৈরির কাজ চলছে, সেই কাজ শেষ হলে খুব শীঘ্রই আবারো মেসরা স্টেশনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

Related Articles