Wednesday, December 1, 2021

দেহব্যবসা করে চালিয়েছেন পড়াশোনা, সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ৭টি আন্তর্জাতিক খেতাব পেয়েছেন এই সুন্দরী

রূপান্তরকামী তাদের নাম শুনলেই আমাদের তথাকথিত ভদ্র সমাজের নাক কুঁচকে যায়। যাদের আজও প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলতে হয় নিজেদের অধিকারের জন্য। আজ আপনাদের সামনে সেরকমই এক রূপান্তরকামীর গল্প তুলে ধরব। তার নাম নাজ যোশী। তিনি হলেন এই দেশের প্রথম রূপান্তরকামী সুন্দরী। পরপর সাতবার দেশে ও বিদেশে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জয় করেছেন সেরার শিরোপা। তবু এই নিষ্ঠুর সমাজ তাকে মেনে নেয়নি। তাই তাকে এখনো অর্থ উপার্জনের জন্য দাঁড়াতে হয় রাস্তায়।

Naaz Joshi

তার জীবনের যাত্রাপথটা কখনোই সহজ ছিল না। ছোটবেলাতে নাজের মেয়েলি স্বভাবের জন্য পাড়া প্রতিবেশীর কাছে লজ্জায় পড়তে হতো তার বাবা-মাকে তাই তাকে মুম্বাইতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কখনোই পরের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেননি নাজ মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি বারে নেচে পয়সা উপার্জন করেছেন। এভাবেই অর্থ উপার্জন করে আইএমটি থেকে এমবিএ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। শুধু পড়াশোনার জন্য নয় নিজের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রপচারের খরচ তিনি নিজেই যোগাড় করেছিলেন। ন্যাশেনাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে পোশাক ডিজাইনিং এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

Naaz Joshi

এক তুতো বোনের হাত ধরে তার মডেলিং এর আশা। পরে সেই বোনের মৃত্যু হলে মডেলিং কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০১২ সাল থেকে মডেলিং এজেন্সিতে কাজ‌ করা শুরু করেন তিনি। তিনি ২০১৪ সালে প্রথম সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ১৫ টি দেশের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন নাজা‌। রূপান্তরকামী বলে তাকে সহ্য করতে হয়েছিল অনেক অপমান। অনেকেই তার লিঙ্গ পরিচয়ের জন্য তার সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে রাজি হননি। তবে তিনি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছেন।

Naaz Joshi

তবে সম্প্রতি তিনি এমপ্রেস আর্থের খেতাব জয় করেন। এখানে তার সাথে মেক্সিকো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও স্পেনের সুন্দরীরা অংশগ্রহণ করেন। এখানে তাকে‌ শেষ পর্বে প্রশ্ন করা হয় ‘লকডাউনই কি অতিমারির একমাত্র সমাধান? জবাবে নাজ বলেন, ‘‘লকডাউন হয়তো রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমাতে পারে। তবে অতিমারিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারে মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতাই। আর আমরা যাঁরা বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুবিধা পাই, তাঁরা এই মঞ্চকে সচেতনতা বাড়ানোর কাজে লাগাতে পারি। তাঁদের ধৈর্য্য ধরতে বলতে পারি। ইতিবাচক হওয়ার প্রেরণা দিতে পারি। অতিমারি এবং লকডাউন নিয়ে নাজের ভাবনা ভাল লাগে বিচারকদের। ২০২০ সালে নাজ মিস ইউনিভার্স ডাইভারসিটির শিরোপা লাভ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত নাজ পর পর তিন বার মিস ওয়ার্ল্ড ডাইভারসিটির খেতাব পেয়েছেন। এ ছাড়া মিস রিপাবলিক ইন্টারন্যাশনাল সৌন্দর্য রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফেও সৌন্দর্য দূত হিসাবে নির্বাচিত করা হয় তাঁকে। তবে আন্তর্জাতিক শিরোপা পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে আজও বেশ অসহায় নাজ। স্থায়ী উপার্জনের রাস্তা নেই। ফ্যাশন ডিজাইনের টপার, আইএমটি থেকে এমবিএ করা নাজ বহু চেষ্টা করেও রূপান্তরকামী হওয়ার জন্য পাননি চাকরি।

Naaz Joshi

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু সবটাই অনিয়মিত। এখনও বাকি রূপান্তরকামীদের মতো নিয়মিত সকালে রাস্তায় নেমে হাত পাততে হয় তাকে। তবে নাজ সবসময় চেষ্টা করেন সমাজের এই মনোভাবের বিরুদ্ধে তাঁর উঠে দাঁড়ানোর । তাঁর মতো আর যাঁরা এই পরিস্থিতির শিকার, তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য এই চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি। বরাবরই নিজর খরচ নিজে চালানোর পক্ষপাতি নাজ তাই কোনও কাজকেই ছোট মনে করেন না।

Naaz Joshi

নাজের মা মুসলিম এবং বাবা হিন্দু পাঞ্জাবী । তবে বাবা এখনও কথা বলেন না তাঁর সঙ্গে। মা-ও সুযোগ পেলেই গঞ্জনা দেন। নাজ এখন একা মা। দুঽটি মেয়ে আছে তাঁর। একটি সন্তান আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে লাভ করেছেন তিনি। অপর জনকে তার মা ময়লা ফেলার পাত্রে ফেলে দিয়েছিল। সেখান নাজ থেকে তাকে তুলে এনে দত্তক নিয়েছেন । তাদের নিজের মতো করে মানুষ করছেন। নাজ জানান, ভালবাসা তাঁর দুই সন্তানের কাছেই পেয়েছেন তিনি।

Naaz Joshi

⚡ Trending News

আরও পড়ুন