অফবিট

একসময় সমস্যার কারণে ছাড়তে হয়েছিল নিজের বাড়ি, কঠিন সংগ্রামের পর আজ তিনি দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার পাইলট

সন্তান যেমনই হোক না কেন, তাকে আদর যত্নে লালন-পালন করা থেকে বাবা-মা কখনোই বিরত থাকে না। তবে বেশ কিছুটা আলাদা ভাবেই মায়ের সাথে এক অদ্ভুত বন্ধন তৈরি হয় সন্তানের! সন্তানের জন্যও তার মা যেন প্রাণপাত করতে পারে। তবে কিছু ভিন্ন ঘটনা তো থেকেই থাকে; সেরকমই এক ” মায়ের নামে কলঙ্কের’ পরিচয় পেল গোটা দুনিয়া। মা হয়েও সন্তানের থেকে পরিচয় গোপন করার অপরাধ করেছেন সেই মহিলা, জন্মের পর যখন জানতে পেরেছে তার সন্তান ‘হিজড়া’ বা ‘কিন্নড়’ তখন থেকেই তাকে ত্যাগ করেছিল বাবা-মা দুজনেই।

 

View this post on Instagram

 

Shared post on

তবে সেই ছোট্ট সন্তানটি বর্তমানে নিজের দমে, নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছে। গোটা দেশের কাছে আজ গর্বের নজির করেছে সে। তিনি হলেন, ‘অ্যাডাম হ্যারি’ (Adam Harry) দেশের সর্বপ্রথম ট্রান্সজেন্ডার পাইলট (Transgender pilot)।নিজের দক্ষতা দেখিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। অনেক বাঁধা-বিপত্তির মধ্যে তার জীবন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু তা সত্ত্বেও কখনো পিছিয়ে আসেনি সে। বাবা ও মায়ের থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর শপথ করেছিল, ‘জীবনে কিছু করে দেখাবেন’ও ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল পাইলট হওয়ার, সে কারণেই প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স-এর পরীক্ষা দিয়ে ২০১৭ সালে জোহেনেসবার্গে লাইসেন্সও পেয়ে গিয়েছিল অ্যাডাম। তবে তার ভাগ্য যেন কিছুতেই তার সাথে থাকত না, আর্থিক সংকটে জেরবার হয়ে যেত অ্যাডাম। পড়াশোনার খরচ চালাতে দোকানে কাজ করতেন তিনি।

 

View this post on Instagram

 

Shared post on

অবশ্য তার জীবন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তখনই, যখন তার বাবা-মা তাকে হিজড়া জানার পর বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল; তার সাথে কোন সম্পর্ক পর্যন্ত রাখেনি! ছেলেটি নিজের দমে গড়ে তুলেছিল নিজের পরিচয়ের পথ। তিনি বলেছেন “একটা সময়ে আমি যখন একাকী থাকতাম, আমাকে তখন সমাজ ঠিক চোখে দেখতো না। এমনকি নিজের পরিচয় গোপন রাখতাম। সেই দিনগুলো আজও আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতন”! আর্থিক অনটনের কথা মাথায় রেখে, পাইলট হওয়ার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সামাজিক বিচার বিভাগে গিয়ে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ‘এশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সোসাইটি’ তাকে আহ্বান জানিয়েছিল, সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য। সেই সময় তিনি কেরালার বিচার বিভাগ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল এবং কেরালার সরকার তার পরিশ্রম ও উদ্যোগ দেখে ২২.৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেছিল। এর পরেই স্বপ্নে সফলতা পেয়েছিল অ্যাডাম, বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিক পাইলট; বলা বাহুল্য দেশের সর্বপ্রথম ট্রান্সজেন্ডার পাইলট।

Related Articles