অফবিট

ভারতের এই নদীতে বয়ে আসে সোনার দলা, স্থানীয়দের উপার্জনের অন্যতম ঠিকানা এই বিশেষ নদী

বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে, চাকরির অভাবে ভুগছে বহু মানুষ। দুবেলা দুমুঠো খেতে পাওয়াটাই যেন এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য। ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি শোনা যায়, নদী থেকে সোনা আসে! তাহলে সেটা কি রকম হবে? তবে অবিশ্বাস্য মনে হলেই এরকমটাই সত্যি। ভারতবর্ষেরই এক নদী থেকে বয়ে আসে সোনার দলা।

ঝাড়খণ্ডের রাচি থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে উৎপত্তি এই বিশেষ নদী, ‘সুবর্ণরেখা’র। এই নদী থেকেই অর্থাৎ নদীর জল থেকেই সোনা পাওয়া যায়। ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) তামর ও সারান্দাতে, প্রায় কয়েক যুগ ধরে বিশেষ উপায়ে নদীর জল থেকে সোনা পরিশ্রুত করে সেখানকার মানুষরা। সেটিই অর্থ উপার্জন করে তাদের রোজগারের একমাত্র উৎস। তবে এই নদীর জল থেকে সোনা পাওয়ার পদ্ধতিটা খুব একটা সহজ নয়; খুব পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এই কাজটি করতে হয়। সোনাও পাওয়া যায় খুব অল্প পরিমাণে, যার ফলে সেখানকার বসবাসকারী আদিবাসীদের সেরকম আয় হয়না। সব থেকে বেশি ৭০ থেকে ৮০ টি সোনা হয়তো অনেক পরিশ্রম করার পর, ওই আদিবাসীরা সংগ্রহ করে। এরপর সে সোনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হয় এবং আদিবাসীরা সেখান থেকে, মাসে খুব বেশি হলে ৮ হাজার টাকা পায়।

এই নদীটির ঝাড়খন্ড থেকে উৎপত্তি হয়ে, পশ্চিমবঙ্গ মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরে উড়িষ্যার রাজ্যের মধ্যে প্রবেশ করে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এই নদীটির স্থানীয় নাম ‘করকারী নদী’, দৈর্ঘ্য প্রায় 474 কিলোমিটার। তবে নদীটি বেশিরভাগটাই পাথরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সেখান থেকেই সোনার উৎস এমনটাই ধারণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গোটা ভারতবর্ষে জুড়ে 400 টি নদী থাকা সত্বেও, কেন যে শুধুমাত্র এই নদীর জল থেকেই সোনা পাওয়া যায় তার কারণ স্পষ্ট নয়। অনেক খুঁজেও বিজ্ঞানীরা এর কারণ খুঁজে পায়নি।

Related Articles