×
নিউজ

সংসার চালাতে বাবা করতেন চাষবাস, হাজার প্রতিকূলতাকে জয় করে দারিদ্রতা ঘুচালেন মেয়ে

Advertisements
Advertisements

ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বেকারত্ব এবং দারিদ্রতা যেন কিছুতেই কিছু হাঁটে না। অপরদিকে উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে জনসংখ্যা, খাদ্য ও কাজবাজ সবকিছুরই চাহিদা বেড়ে চলেছে উত্তরোত্তর। খাদ্যের চাহিদা পূরণ করার জন্য, কৃষি ব্যবস্থা আরো অনেক উন্নতির পথে হাঁটছে। কৃষি ক্ষেত্রে নানান উন্নয়নমূলক জিনিসের প্রয়োগের ফলে; আগের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে কৃষিকাজ। ঠিক সেরকমই আরিয়ালুর (Ariyalur) বাসিন্দা আজহাকু ধীরেন (Azhaku Dheeran), কৃষি কাজে আনলো এক চমকপ্রদ উন্নয়ন। সর্বপ্রথম কম্পোস্ট সারের ব্যবহার শুরু করলো আজহাকু। আগে অবশ্য বাবাকেও কৃষিকাজে সাহায্য করতেন তিনি।

কম্পোস্ট সার তৈরি করার পর, নিজের জমিতে ফসল ফলিয়ে তাতে ওই সারের ব্যবহার করেছিলেন তিনি। যার ফল স্বরূপ প্রচুর পরিমাণে ফসল উৎপন্ন হয়েছিল তার নিজের জমিতে। এরপর তিনি নানান কৃষকদের কাছে গিয়ে এই সারের ব্যবহার সম্পর্কে জানিয়েছিলেন কিন্তু তার যে গ্রামে বিয়ে হয়েছিল সেখানে সবাই এই ব্যাপারে অজ্ঞ ছিল! তাই সেই সার সেরকম বিক্রি হয়নি। তবে বিকল্প পথ হিসেবে আজহাকু বেছে নিয়েছিল অ্যামাজন-কে । প্যাকেজিং, লেভেল, ফটোশুট ও অন্যান্য যাবতীয় সবকিছু করে; ‘সয়েল স্পিরিট’ (soil spirit) নামে তার কম্পোস্ট সারটি অনলাইন বাজারে নিয়ে আসেন তিনি।

সামান্য চাষীর মেয়ে হয়ে তার ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এমন অসামান্য জ্ঞান, সত্যিই অবাক করেছে সকলকে। বিজ্ঞান নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। এরপর অ্যামাজনের মাধ্যমে প্রচুর অর্ডার পেতে শুরু করেছিল আজহাকু, ধীরে ধীরে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছিল তার কম্পোস্ট সারের ব্যবসা। তিনি জানান, “মাত্র এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে, বর্তমানে তার ব্যবসা প্রায় চার লক্ষ টাকা লাভ করেছে”। এই বিষয়ে তার নিকটবর্তী কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (Krishna vigyan kendras) কর্মকর্তারাও তাকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছিল। অনলাইনের পাশাপাশি তার অনেক পরিচিতরাও তার থেকে এই কম্পোস্ট সার কিনতেন, এর ফলে অনেক বেশি বেশি করে অর্ডার পেয়ে আজহাকুর ব্যবসা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়।

Advertisements
Advertisements