×
নিউজ

বাবা শয্যাশায়ী, সংসারের হাল ধরতে ভাঙা সাইকেলে মিষ্টি বিক্রি করছে ক্লাস সেভেনের সুমন

Advertisements
Advertisements

মারণ ভাইরাস করোনার জেরে দেশের বহু মানুষের কাজ চলে গিয়েছে। দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার ফলে কাজ হারিয়েছেন দেশের মানুষেরা। আর সবথেকে করুণ পরিস্থিতি দরিদ্র মানুষদের। তারা তাদের নিজের সংসার চালানোর জন্য জীবনের শেষ টাকা খরচ করে সংসার টেনেছেন বহু কষ্টে। আর এই করোনাতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল সমস্ত স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই সময় বহু পড়ুয়া তাদের পড়াশোনা করতে পারছিল না।

Advertisements

এমনকি অনলাইনে ক্লাস করার মতো সামান্য মোবাইলেটুকু যোগার করতে পারেনি বহু পরিবার। এরকম করেই বহু পরিবারের স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গ্রামবাংলায় দরিদ্র কিন্তু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বহু উদাহরণ রয়েছে। আর এবার সেরকমই এক দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ার দুঃখের কাহিনী সামাজিক মাধ্যমে উঠে এসেছে। এই ঘটনাটি বর্ধমানের মেমারি অঞ্চলের। সেখানে খাঁরগ্রামে রয়েছে একজন অভাবী পড়ুয়া, যার নাম সুমন ঘোষ।

সে মেমারির খাঁরগ্রামের জুনিয়ার হাই স্কুলের ক্লাস সেভেনের ছাত্র। পয়সা ছিল না বলে স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি সুমন। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সহায়তায় তাকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। তার পরিবারে রয়েছে বাবা মা আর তিন বছরের ছোট বোন। পেশায় অ্যাম্বুলেন্স চালক বাবা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। এখন তিনি আর কাজ করতে পারেন না, একেবারে শয্যাশায়ী রয়েছেন। তবে ছেলেকে অনেক বড় করবেন বলে স্বপ্ন ছিল বাবা শরৎ ঘোষ ও মা নয়নমণি দেবীর।

তবে করোনা মহামারী এসে সমস্ত কিছু একেবারে ওলট-পালট করে দেয়। বাবার কষ্ট দেখতে না পেয়ে ছোট্ট সুমন সংসার চালাবে বলে ঠিক করে। আর তাই তার মা মিষ্টি বানাতে শুরু করে, আর ছোট্ট সুমন সেই মিষ্টি নিজের ভাঙা সাইকেলে নিয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে থাকে। এভাবেই সে নিজের পড়াশুনার খরচ এবং তার সাথে সংসারের হাল ধরে।

জানা গিয়েছে, সারাদিন ঘুরে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মত আয় করে সুমন সেখান থেকে টিউশনির খরচ সংসারের প্রয়োজন মেটায়। যদিও ছেলের জন্য আক্ষেপ করে তার বাবা মা। যেই বয়সে পড়াশোনা খেলাধুলা করে সময় কাটানো উচিত সেখানে ভোরবেলা উঠে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি করছে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া সুমন।

Advertisements