Thursday, December 9, 2021

পেশাদারী জীবনে এসেছে নানান ব্যর্থতা, বৈবাহিক জীবনেও ধরেছে চিড়! সোনু নিগমের বাস্তব জীবন কাহিনী হার মানাবে সিনেমার গল্পকে

জীবনে সাফল্য যে একদমই সহজে পাওয়া যায় না সেই গল্প উঠে এসেছে বারংবার। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ছুটে বেড়ায় সবাই-ই কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হতে পারে কজন! ভারতবর্ষের ভার্সেটাইল সিঙ্গারদের মধ্যে যে নামটি সবসময় জ্বলজ্বল করে তা হল সনু নীগম (Sonu Nigam)। সুরের জাদুতে মাতিয়ে রেখেছেন গোটা দুনিয়া। ছোটবেলা থেকেই যার রক্তে ছিল গান।

বিখ্যাত গায়ক সনু নিগমের বাবা ওম কুমার নিগম এবং মা শোভা নিগম দুজনেই গানের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাই শৈশব থেকেই তাঁর গানের সঙ্গে অধ্যায়ন। ছোট থেকেই তিনি দেখেছেন তাঁর মা-বাবাকে বিভিন্ন বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে গান গাইতে। তবে তিনি কোন ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন না। এমন একটা সময়ে গিয়েছে যখন তার মা-বাবা তাকে গীটার বার তবলা কিনে দিতে পারেননি। সেই সময়ে সনু নীগম বেঞ্চ বাজিয়েই অনুশীলন করেছিলেন গানের। পড়াশোনা, গানের রেওয়াজ, মঞ্চে গান গাওয়া এবং হারমোনিয়াম চর্চার মধ্যেই কেটেছে সনু নিগমের শৈশব।

শৈশবে সনু নীগম ছিলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় গায়ক এবং ওস্তাদ গোলাম মুস্তাফা খানের কাছে তালিম নিয়েছিলেন। মাত্র তিন বছর বয়সেই মঞ্চে প্রথম পারফরম্যান্স করতে উঠেছিলেন তিনি। সেই সময়ে লাইভ শোতে তিনি তার বাবার সাথে একটি জনপ্রিয় গান গেয়েছিলেন। তারপর থেকে বহু স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে কেটেছে তার জীবন। নিজের গান কে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শখ নেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে পাড়ি দিয়েছিলেন মুম্বাইয়ে।নিজের কেরিয়ারের শুরুতেই কুমার শানু এবং উদিত নারায়ণের মত কিংবদন্তি গায়ক দের সাথে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সে সময়ে মিউজিক কম্পোজার রাও নতুনদের খুব একটা সুযোগ দিতে চাইতেন না।

পরবর্তী নব্বইয়ের দশকের একটি সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। যদিও সেই সিনেমাটি মুক্তির আলো দেখতে পারেনি। তবে টি সিরিজ (t-series) এর মালিক গুলশান কুমারের চোখে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। সনু নিগমের গানের প্রতিভা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি স্থাণু কে বেওয়াফা সানাম প্রজেক্টে গান গাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন নিজে থেকেই। সেই প্রজেক্টে ‘আচ্ছা সিলা দিয়া’ গানটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সনু নিগমের গলায়। মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠতে থাকেন সনু নিগাম।

১৯৯৫ সালে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সনু সাথে পরিচয় হয় ১৫ বছরের একটি ছোট্ট বাঙালি কন্যা মধুরিমার। সেই সময় প্রথম দেখাতেই মধুরিমা কে ভালো লাগে সনুর। এরপর শুরু হয় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং প্রেমের গল্প। ২০০২ সালের ভ্যালেন্টাইন্সডেতেই এবং মধুরিমার বাগদান সম্পন্ন হয়। ২০০৭ সালে তাদের কোল আলো করে আসে তাদের প্রথম সন্তান নিভান। তবে একসময়ের বিবাহিত জীবনে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার অন্যতম কারণ ছিল সনু নিগমের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। শোনা গিয়েছিল গায়িকা সুনিধি চৌহান এবং ঠাকুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে ছেলে নিভানের কথা ভেবেই আবারো সুখী দাম্পত্য জীবনের দিকে ফিরে আসেন সনু নিগাম।

⚡ Trending News

আরও পড়ুন