ড্রাগের নেশায় বুঁদ হয়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল শুভঙ্করের জীবন, সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনেন অভিনেতার স্ত্রী

Bengali Entertainment

ড্রাগের নেশায় হারিয়ে যেতে পারে একটা আস্ত জীবন। তার জলজ্যান্ত প্রমান অভিনেতা শুভঙ্কর সাহা। “জড়োয়ার ঝুমকো”,”তুমি রবে নীরবে”ধারাবাহিকের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল শুভংকরের। কিন্তু হঠাৎ করেই হারিয়ে যান তিনি। যার মূলে ছিল ড্রাগাশক্তি। বিবাহবার্ষিকীর এক মধুময় দিনে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য স্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ দিলেন শুভঙ্কর। জানিয়ে দিলেন, ভালোবাসা মানুষের রক্ষাকবচ।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন অভিনেতা। বেশ কয়েক বছর পর তাকে ক্যামেরার সামনে দেখে রীতিমতো উচ্চসিত দর্শক। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভঙ্কর জানান তার জীবনে তিক্ত অতীতের কথা। প্রিয় দিদির আকস্মিক মৃত্যুতে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তার কিছুদিনের মধ্যেই মা তাকে ছেড়ে চলে যান। পরপর দুটো মৃত্যু করে দিয়েছিল শুভঙ্কর এর জীবন। একাকীত্ব আর হতাশা গ্রাস করেছিল অভিনেতা কে। ধীরে ধীরে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করেন তিনি। নার্ভের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। কথায় বলে, দুর্ভাগ্যের কোন ইতি নেই। অভিনেতা শেষ অবলম্বন তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে যান।

প্রায় সাতটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল শুভঙ্কর কে। নিয়মিত তার কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি কোন সময়ে সাইক্রেটিস্টরা তাকে চোখ ছাড়া করতেন না। কড়া নজরদারিতে রাখা হতো। মাঝেমধ্যেই নিজের উপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতেন অভিনেতা। কিন্তু একসময় তার পাশে দাঁড়ান তার বর্তমান স্ত্রী তথা তৎকালীন প্রেমিকা। দিনের 15 ঘণ্টা সময় অভিনেতার সঙ্গে কাটাতেন তার স্ত্রী। তাকে খাওয়ানো ঘুমপাড়ানো মত কাজও করতেন। বর্তমানে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে স্টার জলসার বরণ ধারাবাহিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভঙ্কর।

দিন কয়েক আগেই দশম বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছেন শুভঙ্কর এবং তার স্ত্রী। দুজনেই বৈবাহিক জীবনে ভীষণ খুশি। জীবনের সবথেকে রুক্ষ সময় কাটিয়ে রঙিন জীবনে প্রবেশ করে আশার আলো দেখছেন অভিনেতা। সেই সঙ্গে মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের কাছে এক বিরাট আইকন হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।