বিনোদন

পুরোনো যুগের যেন নতুন ছবি, সৌরভ ঘটনার প্রেমকাহিনী হার মানাবে সিনেমার গল্পকেও

তখনকার কলকাতা ছিল সাদাকালো যুগের রঙিন। কালার টিভি ঘরে ঘরে থাকলেও ছিলনা আজকের দিনের এই এলইডি টিভি, ইন্টারনেট স্মার্ট ফোন না থাকলেও তখনকার দিনে সৌরভ এবং ডোনার প্রেম কাহিনী ছিল একদম সিনেমাটিক ব্যাপার। সীমানার এপার ওপারের দুটি বাড়ি। একটি রায় অপরটি গাঙ্গুলী। এক বাড়ি থেকে অপর বাড়িতে যাতায়াত করা যায় খুব সহজে। এক বাড়ির লোকেরা কথা বললে আর এক বাড়ীর লোকেরা শুনতে পান। এই গল্পের পাত্র পাত্রী হলেন সৌরভ এবং ডোনা।

ছোটবেলায় ডোনা এবং সৌরভ ছিল খেলার সঙ্গী। একসাথে তাঁদের বড় হয়ে ওঠা। বাড়ির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলতেন সৌরভ। ডোনাকে দেখে তাঁর হাবভাবটাই বদলে যেত। জামার আকলাটটাকে একটু তুলে অকারণেই হাসতেন। যতক্ষণ সৌরভ খেলা করতেন সেই জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতেন না ডোনা। কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে হৃদয় আদান-প্রদানের পর্বটি সারা হয়ে যায় এই জুটির। কলকাতার এক নামকরা রেস্তোরাঁয় তাঁরা প্রথম ডেটে যান। সেই দিন সৌরভ এতটাই খেয়ে ফেলেছিলেন যে নড়তে পর্যন্ত পারছিলেন না। তখন সৌরভ এক ধরনের বড় তারকা হয়ে গেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে জয়জয়কার ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারাবিশ্বে।

তবে সবকিছুর মধ্যে ডোনার ভয় ছিল কারণ ডোনার বাবার পছন্দ ছিল না গাঙ্গুলী বাড়ীর লোকেদের। এই সব কিছুর মধ্যেই সৌরভ একবার ভেবেছিলাম যে তাঁরা দুজনেই চলে যাবেন রেজিস্ট্রি অফিসে। কিন্তু তাঁরা যদি ২জনেই লুকিয়ে গিয়ে বিয়ে করতেন তাহলে সেই ঘটনা ধরা পড়বে সাংবাদিকদের ক্যামেরায়। আর ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বের সামনে। তাই একদিন সৌরভ ভয়ে ভয়ে তাঁর বাবার কাছে গিয়ে সব কথা জানান। সৌরভের বাবা চন্ডীদাস গাঙ্গুলী পরামর্শ দিতে গিয়ে তাঁর ছেলেকে বলেন যে সে যেন মন নিয়ে খেলা করে বাকি ব্যাপারটা তিনি দেখবেন কি করা যায়।

তারপর সৌরভের বাবা কথা বলেন ডোনার বাবার সাথে। সব শুনে ডোনার বাবাও তো গলে গেলেন। যতই হোক মেয়ে পছন্দ করেছে কলকাতার যুবরাজকে। তারপর দুই বাড়ির তরফ থেকে ধুমধাম করে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়। সালটা ছিল ১৯৯৭ এর ২১শে ফেব্রুয়ারি। এখন সৌরভ আগের থেকেও আরো বড় পর্যায়ে চলে গেছেন। তিনি এখন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। ডোনা হলেন পেশাগত একজন নৃত্যশিল্পী।

Related Articles