‘শ্রীময়ীর মত আমার জীবনে ও যদি একটা রোহিত সেন থাকতো’, দাম্পত্য জীবন নিয়ে আফসোস অভিনেত্রী ইন্দ্রানীর

Indrani Haldar

স্টার জলসার এইসময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্রীময়ী’ শেষ হতে আর বেশিদিন নেই। হ্যাপি এন্ডিংয়ের দিকে এগোলেও হঠাৎ করে মারা গেছে রোহিত সেন। এইরকম পরিস্থিতিতে শ্রীময়ী কী করবে তা এখন দেখার!
প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্প্রচারিত হয়েছে এই ধারাবাহিক। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্য চরিত্র ‘শ্রীময়ী’-র অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদারের (Indrani Halder) দৈনিক জীবনে পরিবর্তন এসেছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুটিংয়ে যেতেন তিনি। ২০১৯ সালের ১০ জুন থেকে শুরু হয়েছিল এই রুটিন। সেই রুটিনে এবার ছেদ পড়বে।

ধারাবাহিকের প্রথম দিকের শ্রীময়ীর সাথে নিজের কোনো মিল খুঁজে পেতেন না ইন্দ্রানী। সংসারের জন্য নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতে রাজি নন তিনি। শ্রীময়ী ধারাবাহিকের শুরুতে ভীষণ আত্মত্যাগ করতো। অপরদিকে ইন্দ্রানী নিজেকে কষ্ট দিয়ে জোর করে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতী নন। তাঁর মতে জীবন একটাই, নিজের জীবনে সবাই নিজের মতো করে সুখী হতে পারে।

পরবর্তীতে নিজের ভালো চেয়ে সংসার ছেড়ে, অনিন্দ্যকে ছেড়ে বাইরে বেরোয়। সেইদিন থেকেই ইন্দ্রানী নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু শ্রীময়ীর চরিত্রকে। ৪০ বছরের ব্যক্তিগত বিবাহজীবনে স্বামী ভাস্করের (Bhaskar) সঙ্গে বহুবার ঝগড়া হয়েছে তাঁর, কম বয়সে ঝগড়া হলে তিনি ডিভোর্সের কথা ভাবতেন, আবার পর মহূর্তে ভাবতেন ডিভোর্সের পর অন্য কারো সঙ্গে বিয়ে করলেও তার সাথেও ঝগড়া হতে পারে। অপরদিকে ভাস্কর ও ইন্দ্রানীর সম্পর্ক বন্ধুর মতো, ঝগড়া হলেও ভাস্কর ইন্দ্রানীর কখন‌ও অপমান করেননি। বেশি বয়সে বিয়ে করেছেন নিঃসন্তান থেকে গেছেন তাঁরা।

এত কিছুর পরেও মাঝে মাঝে ইন্দ্রানী ভাবেন তাঁর জীবনে যদি রোহিত সেনের মতো কেউ থাকতো তাহলে হয়তো ভালো হতো। রোহিত সেনের সঙ্গে শ্রীময়ীর বিয়ের সিদ্ধান্তে দর্শকমহলের এক বড় অংশ ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন। চিত্রনাট্যের এই চমক ইন্দ্রানীর‌ই মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল, লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়‌ও তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। পাশাপাশি ইন্দ্রানী তাঁর বন্ধুদেরকে জিজ্ঞেস করতেন তাঁরা এই বিয়ের ব্যাপারে কী ভাবছেন, তাঁদের মতামত রেকর্ড করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করতেন তিনি। Indrani Haldarএমন কী তিনি নিজের মাকেও এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনিও বিয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন। তবে ইন্দ্রানীর নিজস্ব ভাবনা অনুযায়ী বিয়ে করাটাই শেষ কথা নয়, স্বামীর সঙ্গে না পোষালে কোনো মহিলা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী একা থাকতে পারেন বা ভালোলাগার অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে বিয়ে না করেও থাকতে পারেন, সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।