×
বিনোদন

হাসি মুখে সুশান্তের ‘গুড মর্নিং দাদা’ বলাটা সব সময় মনে থাকবে, আবেগে ভাসলেন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়

Advertisements
Advertisements

গতবছর ১৪ জুন, যেদিন আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত, যার স্মৃতিতে গত পরশু টলিউড থেকে বলিউড সবাই ভেসছেন। তরুণ এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল বিষ বছরের সমগ্র চলচ্চিত্র জগত-সহ গোটা দেশকে। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছিল একাধিক প্রশ্নও। এদিন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় সুশান্তের আবেগে ভেসে উঠলেন তাঁর মতে তিনি এই দিনটিকে কোনও দিনও মনে রাখতে চান না, আর পাঁচটা দিনের মতই এটি তাঁর কাছে একটি সাধারণ দিন। কারণ তিনি এখনও মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, সুশান্ত সিং রাজপুত এখনও বেঁচে আছেন। সুশান্ত তাঁর কাছে একজন প্রাণোচ্ছ্বল চরিত্র যাঁর মৃত্যু কখনও হয় না।

Advertisements

অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্তের আলাপ হয়েছিল ‘দিল বেচারা’ ছবির শুটিংয়ের থেকে। বেশ ভালো সময় তিনি সুশান্তের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এমনকি দোলনার কাছে বসে তাঁর এবং সুশান্তের সেই অভিনীত দৃশ্য এখনও সকলের মনের মণিকোঠায় রয়েছে। শাশ্বতর মতেও তাঁর জীবনেও কাছেও এটি তাঁর যাচ্ছে একটি অন্যতম সেরা দৃশ্য ছিল।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেন তিনি বলেন- “আমার সব চাইতে বেশী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সুশান্তের মেকআপ ভ্যানে থাকা ভর্তি বইয়ের উপর! কারণ এর আগে আমি কারও ভ্যানে এত বই দেখিনি। অত্যন্ত ভদ্র, হাসিখুশি একটি মানুষ ছিলেন সুশান্ত। বই পড়া থেকে শুরু করে নানা বিষয়ের প্রতি তাঁর জ্ঞানের আগ্রহ ছিল প্রচুর পরিমানে। এছাড়া তিনি ভবিষ্যতের জন্যে প্রচুর পরিকল্পনাও করে রেখেছিলেন। এইসব কিছু দেখেও কোনওদিন একফোঁটাও মনে হয়নি যে ওর ভিতর এত চাপা কষ্ট ছিল, কেননা সুশান্ত নিজের কষ্ট কোনও দিনও কাউকে বুঝতে দেয়নি। এছাড়া শুটিংয়ের সময়ে সকালবেলা আমার সঙ্গে দেখা হলেই হাসি মুখে সুশান্তের মুখ থেকে শোনা ‘গুড মর্নিং দাদা’ বলাটা আজীবন মনে থেকে যাবে।”

শাশ্বত আরো জানিয়েছেন, “আমার দেখা সেরা পারফর্মার ও। ওর অধ্যবসায়, ওর চেষ্টা আমায় মুগ্ধ করেছে। ও ছিল কাজের প্রতি নিবেদিত প্রাণ। ‘দিল বেচারা’ ছবির টাইটেল ট্র্যাকে যা যা দেখেছেন আপনারা পুরোটাই একটা টেকে শুট করা। আমি ভাবতেই পারি না এটা করার কথা। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে কোনও অভিনেতার এটা দেখে শেখা উচিৎ। কোনও কাট নেই, গানে লিপ দিচ্ছে, স্টেপস দিচ্ছে, ক্যামেরা নিচ্ছে, পারফেক্ট সিক্যুয়েন্স করল কীভাবে? আমি অবাক হয়েছিলাম। প্রত্যেকের জন্য শিক্ষণীয় তাঁর কাজ। প্রতিটা জিনিস মনে করে পুরো নিখুঁত করে দিত, যেন ম্যাজিক সৃষ্টি করত। মানুষের কাছে সুশান্তের জায়গা কোথায় তা ‘দিল বেচারা’ ছবির ভিউয়ারশিপই বলে দেবে। আমার সাথে আড্ডা দিত মাটিতে বসে। মাটির মানুষ ছিল সুশান্ত, ও নেই মনে করতে চাই না। ওর থাকাটাই আমার কাছে থাকবে। আর সুশান্ত ওর কাজের মধ্যে দিয়ে থেকে যাবে আজীবন।” শাশ্বতর দেখা সুশান্তের সেরা কাজ ছিল ‘ছিছোঁড়ে’।

Advertisements