দেশ

মোটা মাইনে বেঁধে রাখতে পারেনি স্বপ্নের উড়ান, অলবিন্দ্র-এর আজ ২৩ হাজার কোটি টাকার কোম্পানি

বর্তমানে জনসাধারণ অনলাইন সিস্টেমের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। জামাকাপড়, ওষুধ পত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন চাল, ডাল, নুন, তেল কিনতে আর পাড়ার মুদিখানা দোকানের উপর অনেকেই ভরসা করছেন না। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিচ্ছেন মধ্যবিত্তরা। তবে বর্তমান সমাজে মধ্যবিত্তদের এই জীবনযাত্রা এবং কেনা কাটার ধরণ বদলে দেওয়ার পিছনে রয়েছেন অলবিন্দ্র ঢিঢসার (Albinder Dhindsa)। জনসাধারণের কাছে হয়তো তিনি এখনো পর্যন্ত অপরিচিত, কিন্তু তাঁর সংস্থা গ্রোফার্স সবার কাছে বহুল পরিচিত। বর্তমানে এই সংস্থাটি নতুন রূপে ব্লিঙ্কিট নামে পরিচিত।

২০২০ অর্থবর্ষ অনুযায়ী এই সংস্থার লাভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে অলবিন্দ্রর নিজের মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। মাত্র ৯বছরের মধ্যেই তিনি বিপুল পরিমাণের টাকা উপার্জন করে ফেলেছেন। তবে এই সংস্থা চালু করার আগে আমেরিকার দুটি বহুজাতিক সংস্থার সাথে তিনি কাজ করেছিলেন। ২০০৫ সালে আমেরিকার ইউ আর এস কর্পোরেশন এর সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে কেমব্রিজ সিস্টেমেটিক এস সিনিয়ার অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগদান করেন। তবে আমেরিকার এই দুই বহুজাতিক সংস্থার মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করবার জন্য।

দিল্লির আইআইটির স্নাতক অলবিন্দ্র অনেকদিন আগে থেকেই নিজের মনে নিজস্ব একটি সংস্থা খোলার স্বপ্নও পুষে রেখেছিলেন। তবে আচমকাই তাঁর কাছে এই স্বপ্ন সত্যি করার সুযোগ চলে এসেছিলো। চাকরি নয় ব্যবসা করতে হবে এটাই ছিল তাঁর মনের বদ্ধমূল ধারণা। এমবিএ ডিগ্রী থাকা সত্ত্বেও ফিরে আসেন দেশে। কেমব্রিজ সিস্টেমেটিক্স এর সহকর্মী সৌরভ কুমারের সাথে যুক্ত হয়ে খুলে ফেলেন তাঁর নতুন সংস্থা। উল্লেখ্য পরবর্তীকালে এই সৌরভ কুমার তাঁর সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হন।

প্রথম দিকে তিনি ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনের প্রধান হিসেবে জ্যোমাটোতে কাজ শুরু করেন। খাবার ডেলিভারি করার সমস্ত বিষয়ে খুটিনাটি অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য তিনি এই কাজ করেছিলেন। প্রায় তিন বছর তিনি এখানে কাজ করেন। এরপরই ২০১৩ সালে সৌরভ কুমার এর সাথে ওয়াননাম্বার ডেলিভারি সংস্থা খোলেন। প্রথমদিকে এই নতুন স্টার্টআপ এসব কিছু হাতে কলমে অলবিন্দ্র ও সৌরভ কুমার নিজে ৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ টি ডেলিভারি নিজেরাই দিতেন। ওয়াননাম্বারে শুধুমাত্র মুদিখানার জিনিস এবং ঔষধ সরবরাহ করা হতো। পরবর্তীকালে নিখুঁত গ্রাহক পরিষেবা দেবার জন্য গ্রোফার্স এর মাধ্যমে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি চটজলদি মুদিখানার জিনিস পৌঁছে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় এই সংস্থা।

শুরুর তিন বছরের মধ্যেই এই নতুন সংস্থা সাফল্য এবং ব্যর্থতা এই দুইয়ের মুখ ই দেখেছিল। ২০১৫ সালে জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর সাথে ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি সারে গ্রোফার্স। সেই বছরই এই সংস্থার লোকসান হয়েছিল ২২৫কোটি টাকা। ফলে সংস্থা থেকে ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপরই সংস্থা মোবাইল অ্যাপে পরিবর্তিত হয়। ১০ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকদের পর্যায়ে পৌঁছে যায় প্রোডাক্ট। ব্যাঙ্গালোরে ৬০ হাজার বর্গফুটের গুদামের ব্যবস্থা করা হয়। এখান থেকেই সমস্ত মুদিখানার জিনিস গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হতো। পরবর্তীকালে চটজলদি ডেলিভারির জন্য অত্যন্ত সাফল্যের মুখ দেখে এই সংস্থা। এরপর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি দেশের ৩০ টির বেশী শহরে শাকসবজি, মোবাইল, বইপত্র, প্রসাধনী-ইলেকট্রনিক্স জিনিস ইত্যাদি পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করে অরবিন্দ্রর সংস্থা। বর্তমানে ২০২১সালে আমেরিকার বিনিয়োগকারীরা ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা ঢেলেছেন অলবিন্দ্রর ব্লিঙ্কিটে।

Related Articles